ফেসবুক প্রোফাইল কেন ডিজেবল হয়? কিভাবে সুরক্ষিত রাখবেন?

আসসালামু আলাইকুম কেমন আছেন সবাই? রিসেন্টলি একটা ব্যাপার লক্ষ করা যাচ্ছে যে অনেক বেশি ফেসবুক একাউন্ট ডিজেবল এবং লক হচ্ছে। অনেকেই তাদের ছোটখাটো কিছু ভুলের জন্য অনেক পুরনো ফেসবুক আইডি হারাচ্ছেন।
আজকে আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এর কথা বলব এগুলো যদি আপনি আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে এপ্লাই করেন এবং ঠিকঠাকমতো মেনে চলেন তাহলে ধরে নেয়া যায় আপনার ফেসবুক প্রোফাইল টা ডিজেবল বা লক হবে না।
ফেসবুক আইডি ডিজেবল হওয়ার কারণ, ফেসবুক আইডি সুরক্ষিত রাখতে করণীয়,

এখনই ফেইসবুক সারা পৃথিবীতে সবচাইতে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এটা আপনারা সবাই জানেন আর হাতে হাতে স্মার্টফোন এবং ফেসবুক থাকার কারণে সত্য মিথ্যা খবর গুজব এগুলো কিন্তু খুব দ্রুত এই ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বেশিরভাগ সময় এইসব ব্যাপারগুলো আমাদের কোন কাজে তো আসেই না উল্টো বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তাছাড়া এই ফেসবুক প্রোফাইল দিয়ে ক্রাইম কিন্তু দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এ ধরনের বিষয়গুলো মাথায় রেখে ফেইসবুক অথরিটি ডিসিশন নিয়েছে যে যেসব প্রোফাইলের ইনফর্মেশন ফেক বলে মনে হবে! মানে সোজা বাংলায় বললে ভুয়া অ্যাকাউন্ট যেগুলো আছে কিংবা যে সব একাউন্ট এর কার্যকলাপ খুবই সন্দেহজনক ওইসব অ্যাকাউন্টগুলো তারা ডিজেবল করে দিবে, যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ফেসবুক প্রোফাইল টেম্পোরারি ডিজেবল করে দেওয়ার পরে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কিন্তু একটা চান্স দিচ্ছে, মানে আপনি আপিল করতে পারেন কিংবা রিভিউর জন্য রিকোয়েস্ট করতে পারেন বাট একটা কথা আছেনা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই হচ্ছে উত্তম।

আমি এখন যে ৭টা পয়েন্ট এর কথা বলব সেগুলো একটু মেনে চলবেন তাহলে আপনার ফেইসবুক প্রোফাইল নিয়ে কোনো রকম কোনো ঝামেলায় পড়বেন না।

আরো পড়ুন:- কিভাবে আপনার অনলাইন ই-কমার্স ওয়েবসাইটের জন্য একটি সুন্দর নাম সিলেক্ট করবেন।

১/ এক নম্বর পয়েন্ট হচ্ছে ইউজ ইওর রিয়েল নেম, ফেসবুক প্রোফাইলে অলওয়েজ অরিজিনাল এবং অফিশিয়াল নাম ব্যবহার করবেন যেই নামটা আপনার এনআইডি কার্ড কিংবা বার্থ সার্টিফিকেট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স কিভাবে পাসপোর্টে দেওয়া আছে সেই নামটাই ব্যবহার করতে হবে। কিছু মানুষকে দেখা যায় (আবেগি মন), (অশান্ত মন আমার), (স্বপ্নহীন) এই টাইপের নাম ব্যবহার করেন। এই টাইপের নাম কখনোই ব্যবহার করবেন না, কারণ কোনো কারণে যদি ভবিষ্যতে আপনার ফেসবুক আইডিটা ডিজেবল করে দেয় টেম্পোরারি সেক্ষেত্রে আপনি যদি আপিল করতে চান কিংবা রিভিউ রিকোয়েস্ট করতে চান তাহলে কিন্তু আপনাকে প্রমাণস্বরূপ আপনার এনআইডি কপি কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি অথবা বার্থ সার্টিফিকেট কিংবা পাসপোর্ট এর কপি আপলোড করতে হবে, তখন যদি এই দুইটা নাম ম্যাচ না করে তাহলে কিন্তু আপনার আইডি ডিজেবল হয়ে যাবে। তো ফেসবুক প্রোফাইলের নামটা যেন অরিজিনাল এবং অফিশিয়াল হয় সে ব্যাপারটা একটু খেয়াল রাখবেন।

২/ এরপর আসে দুই নাম্বার পয়েন্টে, আর সেটা হচ্ছে প্রোফাইল পিকচার সবসময় ট্রাই করবেন নিজের ছবি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে দিতে, মাঝে মাঝে দুই একটা ছবি আপনি অন্য রকম দিতেই পারেন বাট বেশিরভাগ সময়ই ট্রাই করবেন নিজের ছবি দিতে। অনেকের প্রোফাইলে দেখা যায় তাদের প্রোফাইলে কখনোই প্রোফাইল পিকচার হিসেবে তাদের অরিজিনাল ছবি থাকেনা। সেখানে থাকে কিছু অ্যানিমেটেড কিংবা কার্টুন টাইপের ছবি, এই টাইপের প্রোফাইল পিকচার থাকলেও কিন্তু আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট টা নিয়ে ঝামেলা হওয়ার চান্স থাকে। কারন একটা জেনুইন প্রোফাইলে একটা মানুষের জেনুইন পিকচার থাকবে এটাই নরমাল।

৩/ এখন তিন নাম্বারে যে পয়েন্ট আছে, সেটা হচ্ছে ডেট অফ বার্থ আপনার অফিশিয়াল জন্মতারিখ জেটি, মানে জন্মতারিখ আপনার এনআইডি, বার্থ সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স এ দেওয়া আছে সেটাই ফেসবুকে ব্যবহার করবেন। একটু আগে যে কারণে অরিজিনাল অফিশিয়াল নাম ব্যবহার করতে বললাম এটা কিন্তু সেই কারণ, মানে আপনার আইডিটা যদি কোনো কারণে ডিজেবল করে দেয় আপনি যদি আপিল করেন কিংবা রিভিউ রিকোয়েস্ট করেন তখন কিন্তু আপনার এই যে নাম এবং জন্মতারিখ সবই কিন্তু ম্যাচ করতে হবে।

৪/ এরপর চান নাম্বারে যেটা আছে, সেটা হচ্ছে টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন। Two-factor অথেন্টিকেশন যদি আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে অন করা না থাকে তাহলে সেটা অন করে নিতে হবে। এটা যে শুধু আপনার ফেসবুক প্রোফাইলের সিকিউরিটি বাড়াবে তা কিন্তু না। এই Two-factor অথেন্টিকেশন চালু থাকা মানেই হচ্ছে ওই আইডিটার এগেনিস্টে একটা অ্যাক্টিভ মোবাইল নাম্বার বা একটা ইমেইল এড্রেস এড করা আছে, আর এটা থেকে কিন্তু অনেকটাই প্রুভ হয় যে এই ফেইসবুক প্রোফাইল টা একজন রিয়েল মানুষের।

আরো পড়ুন:- ল্যাপটপ দীর্ঘদিন ভালো রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলুন

৫/ এখন পাঁচ নাম্বারে যে পয়েন্ট আছে সেটা হচ্ছে মেনটেইন কমিউনিটি গাইডলাইন। কমিউনিটি গাইডলাইন হচ্ছে ফেসবুকের নিজস্ব কিছু নিয়ম নীতি, মানে ফেসবুক ব্যবহার করে আপনি কি কি করতে পারবেন এবং কি কি করতে পারবেন না আর কোন ব্যাপার গুলো একদমই নিষিদ্ধ। যেসব জিনিস ফেসবুকে টোটালি নিষিদ্ধ তা হচ্ছে উস্কানিমূলক কোন পোস্ট, রাজনৈতিক পোস্ট কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এরকম কোনো পোস্ট অথবা যেসব পোস্ট এর কারণে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা কিংবা বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে এই ধরনের পোস্ট কিন্তু সম্পূর্ণভাবে ফেসবুকের নিষিদ্ধ, এর বাইরে আরেক ধরনের জিনিস নিষিদ্ধ সেটা হচ্ছে ১৮+ ফটো ভিডিও বা পোস্ট। এখন এইটিন প্লাস পোস্ট ফটো বা ভিডিও মানে কিন্তু এই না যে সেগুলো শুধুমাত্র সেক্স রিলেটেড, কোন জায়গার দাঙ্গা ফ্যাসাদ মারামারি কিংবা অ্যাক্সিডেন্টের যে ভিডিও সেন্ড ফটোগুলো আছে যেগুলো রক্তাক্ত অবস্থায় হয়তো ডেড বডি পড়ে আছে এরকম যে সেনসিটিভ কনটেন্ট গুলো আছে সেগুলো কিন্তু এইটিন প্লাস এর মধ্যে পড়ে। ফেসবুকে এ ধরনের পোস্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

এরপর ৬ নাম্বার এবং ৭ নাম্বারে যে পয়েন্ট দুটো আছে সে দুটো কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।

৬/ এখন ৬ নাম্বারে যে পয়েন্ট আছে সেটা হচ্ছে সন্দেহজনক কার্যকলাপ। আপনি যদি কিছুদিন পরপর আপনার ফেসবুক প্রোফাইলের নাম চেঞ্জ করতে যান কিংবা আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে যে জন্ম তারিখ টা দেওয়া আছে সেটা চেঞ্জ করতে যান ব্যাপার গুলো কিন্তু ফেসবুকের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়, এছাড়াও আরো কিছু এক্টিভিটিস বা কাজ আছে যেগুলো যদি আপনি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে করেন তাহলে ফেসবুকের যে সিস্টেম আছে তার কাছে সেটা সন্দেহজনক মনে হয় যেমন আপনি যদি আপনার ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে একদিনে ৫০ জনেরও বেশি ফ্রেন্ডকে আনফ্রেন্ড করে দেন কিংবা এক দিনেই আপনি হয়তো এক থেকে দেড়শ মানুষকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালেন কিংবা আপনার ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে থাকা যে মোবাইল নাম্বারটা আছে কিংবা যে ইমেইল এড্রেসটা দেওয়া আছে সেটাও যদি আপনি ঘন ঘন চেঞ্জ করতে থাকেন তাহলে কিন্তু ব্যাপারটা সন্দেহজনক আর এইসব সন্দেহজনক কার্যকলাপের জন্য আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কিন্তু টেম্পোরারি অথবা পার্মানেন্টলি ডিজেবল হয়ে যেতে পারে।

৭/ এরপর সর্বশেষ এবং সাত নাম্বারে যে পয়েন্ট আছে সেটা হচ্ছে আপনি যদি আপনার একটা মোবাইল কিংবা ডিভাইস থেকে কিছুদিন পর পর একটা করে ফেইসবুক আইডি ক্রিয়েট করতে থাকেন তাহলেও কিন্তু জিনিসটা নরমাল না। আর আইডি ক্রিয়েট করার সময় সেটা কোন ডিভাইস থেকে কিংবা কোন আইপি অ্যাড্রেস থেকে ক্রিয়েট করা হচ্ছে সেটা কিন্তু ফেসবুকের সিস্টেম ডিটেক্ট করতে পারেন। আর এটা খুবই নরমাল একটা মানুষ যদি দশ পনেরোটা ফেইসবুক আইডি খুলে তাহলে তার উদ্দেশ্য এবং কার্যকলাপ ভালো হওয়ার কথা না।

 এখন এই ৭টা ব্যাপার মেনে চললে আপনার ফেসবুক একাউন্ট ডিজেবল হওয়ার চান্স নেই বললেই চলে।

আমাদের পোষ্ট গুলো যদি ভালো লাগে তাহলে শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন, কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ সবাইকে ভালো থকবেন আল্লাহ হাফেজ।

Post a Comment

Previous Post Next Post