২০২৫ সালের নতুন মোবাইল কেনার আগে যে জিনিস গুলো দেখা উচিত
আসসালামুয়ালাইকুম আশা করি সবাই অনেক ভাল আছেন। যারা নতুন মোবাইল কিনবেন ভাবছেন তাদের জন্য আজকের এই পোস্ট।
নতুন একটা মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে কি কি জিনিস দেখে বুঝে ভেবে তারপর কেনা উচিত সেরকম সাতটা ব্যাপার নিয়ে বলব। আর আমার মতে এই ব্যপারগুলো সবারই জানা উচিত এবং একটু খেয়াল করা উচিত কারণ আমরা কিন্তু সবাই কষ্ট করে টাকা ইনকাম করি, আর কষ্টের টাকা দিয়ে যখন একটা মোবাইল কিনে সেটা থেকে ঠিকঠাক মতো পারফর্মেন্স না পাই, কিংবা সেটার সার্ভিস ভালো না হয় তখন কিন্তু আমাদের মন মেজাজ খারাপ হয়ে যায় এবং মনে হয় টাকাটা জলে গেল।
১/ একটা নতুন মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে এক নাম্বারে যে পয়েন্টের উপর নজর দেওয়া উচিত সেটা হচ্ছে বাজেট। আর এটা খুবই নরমাল যে সবার স্বার্থ এবং সামর্থ্য সেইম না। এখন আপনার বাজেট ১৫/২০/৩০ হাজার ৪০ হাজার কিংবা তার চেয়ে বেশি যেটাই হোক না কেন একটা জিনিস একটু খেয়াল করে দেখবেন প্রতিটা মোবাইল কোম্পানির বা ব্র্যান্ডের কিন্তু সেইম প্রাইস এর অনেকগুলো মডেল হয়ে থাকে। আর এজন্যই নতুন একটা মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে প্রথমেই আপনাকে বাজেট ফিক্স করে ফেলতে হবে এবং তারপরে অন্যান্য যে বিষয় গুলো আছে সেগুলোর উপরে নজর দিতে হবে।
জেনে নিন সেন্সর কি? মোবাইলে কোন সেন্সর কি কাজ করে?২/ দুই নাম্বারে আপনাকে যেটা চিন্তা করতে হবে সেটা হচ্ছে আপনার রিকোয়ারমেন্ট কি কি? মানে নতুন মোবাইলটা দিয়ে আপনি কথা বলা ছাড়া আর কি কি কাজ বেশি করবেন। কারণ এগুলোর ওপর অনেকগুলো ক্রাইটেরিয়া ডিপেন্ড করছে। যেমন আপনি যদি অনেক বেশি ভিডিও কিংবা মুভি দেখে থাকেন তাহলে কিন্তু আপনাকে এলইডি ডিসপ্লের জায়গায় পছন্দ করতে হবে এমোলেড কিংবা সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে। আপনি যদি গেমিং করে থাকেন তাহলে আপনার দরকার লেটেস্ট প্রসেসর এবং রেম যেটাতে বেশি। আবার আপনি যদি ভিডিওগ্রাফি এবং ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করেন তাহলে আপনাকে চুজ করতে হবে এই বাজেটের মধ্যে কোন ফোনটার ক্যামেরা সবচেয়ে ভালো। আপনাকে যদি কাজের প্রয়োজনে বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকতে হয় এবং বাইরে থেকেই ফোনটা বেসি ইউজ করতে হয় তাহলে আপনার দরকার ভালো বিল্ড কোয়ালিটি এবং বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ আছে এরকম একটা ফোন। মোটকথা আপনার রিকোয়ারমেন্ট বা চাহিদা অনুযায়ী আপনাকে ফোনের মডেল চুজ করতে হবে।
৩/ এখন তিন নাম্বার পয়েন্ট যেটা এই 2022 সালে এসে অনেকে কনফিউশনে আছেন 4g হ্যান্ডসেট কিনবেন নাকি ফাইভ জি হ্যান্ডসেট কিনবেন? 2025 এর শেষের দিক থেকে না হলেও 2026 এর প্রথম দিক থেকে মোটামুটি সবগুলো ফোন কোম্পানি আমাদেরকে ফাইভ-জি সার্ভিস দিবে এরকমটা আমরা আশা করতে পারি। আপনি যদি চিন্তা করেন যে আপনার নতুন ফোনটা আপনি 2/3 বছর কিংবা তারও বেশি সময় চালাতে চাচ্ছেন তাহলে আমি সাজেস্ট করবো ফাইভ-জি ফোন নেওয়ার। আর যদি এরকম হয় আপনি ছয় মাস এক বছর পরে হ্যান্ডসেট টা আবার চেঞ্জ করে ফেলবেন সে ক্ষেত্রে আপনি 4G হ্যান্ডসেট নিতে পারেন।
৪/ এখন চার নাম্বারে যে জিনিসটার ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে সেটা হচ্ছে এর Ram & Rum. এই 2025 সালে এসেও অনেকের টু জিবি র্যাম এবং সিক্সটিন জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজে ফোন ব্যবহার করে সেটার কাছ থেকে ভালো পারফর্মেন্স এক্সপেক্ট করেন! এটা আশা করাটাই ভুল। কারণ এখন যে অ্যাপস গুলো আছে সেগুলোর সাইজ কিন্তু অনেক বড় হয় এবং অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম যেটা আছে সেটাও কিন্তু আপনার ইন্টারনাল স্টোরেজে অনেকখানি জায়গা নিয়ে নেয়। যখন একটা ফোনের রেম একটু কম থাকে এবং ইন্টারনাল স্টোরেজের জায়গা কমে যায় তখন কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই ফোনটা স্লো পারফর্ম করে। আমার হিসেব অনুযায়ী এই সময়ে এসে আপনি যদি একজন নরমাল ইউজার হন মানে ধরুন আপনি ফেইসবুক, ভাইবার, ইমো অ্যাপস গুলো ইউজ করেন একটু ব্রাউজ করেন একটু ইউটিউবে ভিডিও দেখেন তাহলে ফোর জিবি রাম আপনার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু আপনি যদি হেভি ইউজার হন মানে অনেক বেশি মাল্টিটাস্কিং করেন কিংবা high-end গেমস খেলেন সেক্ষেত্রে আপনার কিন্তু মিনিমাম এইট জিবি র্যাম লাগবে। এখন আপনার বাজেট যদি হয় মিড রেঞ্জের এবং আপনার ফোন ইউজ ও যদি হয় মোটামুটি লেভেলের তাহলে আসলে 4gb ও না আর 8GB ও না আমি সাজেস্ট করি 6gb রেম। আমার পার্সোনাল অবজারভেশন হচ্ছে মিড বাজেটে 6GB রামের যে ফোনগুলো আছে এগুলো সাধারণত হ্যাং কম করে এবং বেশ ভাল পারফর্ম করে। আর রেম ইন্টারনাল স্টোরেজ কত জিবি হওয়া উচিত সেটা যদি বলি একটু আগেই বললাম এখনকার অ্যাপ গুলো অনেক বড় হয় এবং অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমও কিন্তু অনেকখানি জায়গা নিয়ে নেয় এই ইন্টার্নাল স্টোরেজ থেকে। এখন একটা নতুন ফোন কেনার ক্ষেত্রে এটলিস্ট 64 জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ বা 6GB Ram আছে এরকম একটা ফোন ইউজ করা উচিত। আর আপনার বাজেটে যদি আপনি 128 জিবি রম এর ফোন পান তাহলে তো খুবই ভালো।
৫/ এরপর পাঁচ নাম্বারে যে ব্যাপারটার উপর খেয়াল রাখতে হবে সেটা হচ্ছে ফোনটার ব্যাটারি। অনেকেই ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশি পাওয়ার জন্য 5000mah 6000mah কিংবা তার চেয়ে বেশি বড় ব্যাটারি আছে এমন মোবাইল ইউজ করেন। ফোনের ব্যাটারি mah বেশি হলে সেই ফোনটা থেকে আপনি ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশি পাবেন সে ব্যাপারে কিন্তু কোনো সন্দেহ নেই। বাট এক্ষেত্রে কিন্তু ফোনটার সাইজ ও বড় হয় এবং ওজনও বেশি হয়। আর ফোনটা তে যদি ফাস্ট চার্জিং না থাকে তাহলে ফোনটা চার্জ হতেও কিন্তু অনেক সময় লেগে যায়। এখন আপনার ক্ষেত্রে যদি এমন হয় যে আপনি বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকেন যেখানে চার্জার এভেলেবল না এবং একটা ভারি ফোন ক্যারি করতে আপনার কোন প্রবলেম নেই সেক্ষেত্রে আপনি বেশি এমএএইচ এর ব্যাটারি আছে এরকম একটা মোবাইল নিতে পারেন। বাট আমার কাছে মনে হয় সাড়ে চার হাজার এমএইচ এর ব্যাটারি আছে এরকম মোবাইল গুলো সব দিক থেকে সুবিধাজনক। মানে এই ফোনগুলো ওজন কম হয় আবার 4500mah এর ব্যাটারি দিয়ে কিন্তু আপনি অনায়াসে সারা দিন পার করতে পারবেন। আর সেই ফোনটা যদি এটলিস্ট এইটিন ওয়াট এর ফাস্ট চার্জিং সাপোর্টেড হয় তাহলে কিন্তু আরও ভালো। কারণেই আপনার ব্যাটারি যদি কখনো সেসহয়েও যায় আপনি কিন্তু ঝটপট চার্জ করে নিতে পারবেন।
৬/ এখন 6 নাম্বারে যে পয়েন্টটা নিয়ে কথা বলব সেটা আপনার ফোনের রেম এর সাথে কানেক্টেড। অনেকেরই ধারণা আছে যে কোন একটা ফোন সিক্স জিবি র্যাম কিংবা এইট জিবি র্যাম থাকলেই সেটা সুপারফাস্ট ধারণাটা অনেকটাই ভুল। একটা সিক্স জিবি র্যামের ফোন একটা এইট জিবি র্যামের ফোনের চেয়েও বেশি ভালো পারফর্ম করতে পারে। এই বিষয়টা ডিপেন্ড করছে ওই ফোনের হার্ডওয়ার, সফটওয়্যার, অ্যাপস এগুলো কতটা ভালো করে অপটিমাইজ করা। একটা ফোনের সবকিছু ঠিকমতো অপটিমাইজ কিনা সেটা কিন্তু খুব ইম্পর্টেন্ট। আর এটা বোঝার জন্য দুইটা সিম্পল উপায় আছে যেটা আমার সর্বশেষ এবং 7 নম্বর পয়েন্ট।
৭/ এতক্ষণ যতগুলো পয়েন্ট বললাম এগুলো থেকে যদি আপনি কোন একটা মডেল পছন্দ করেন তারপরে কিভাবে বুঝবেন ওই ফোনটার সবকিছু ঠিকঠাক মতো অপটিমাইজ করা আছে এবং ফোনটা ভাল পারফর্ম করে? এটা বোঝার আসলে প্র্যাকটিক্যালি দুইটা অপশন আছে। একটা হচ্ছে আপনি যেই মডেলটা পছন্দ করবেন সেটার উপরে আপনি একটু ঘাটাঘাটি করতে পারেন। মানে ইউটিউবে যেসব ফোনের রিভিউ থাকে কয়েকটা রিভিউ যদি আপনি দেখেন তাহলে একটা আইডিয়া পাবেন। আর সবচেয়ে ভাল অপশন যেটা সেটা হচ্ছে আপনার আশেপাশে আপনার বন্ধু-বান্ধব কিংবা পরিচিত কেউ যদি ওই ফোনটা কিনে থাকে তাহলে আপনি তার কাছ থেকে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স কি সেটা জেনে নিতে পারেন। এখন এই ব্যপারগুলো মাথায় রেখে একটু ভেবে শুনে বুঝে তারপরে ধীরেসুস্থে আপনি কোন মোবাইলটা কিনবেন সেটা পছন্দ করবেন। তাহলে আশা করা যায় আপনি একটা ভালো মোবাইল কিনতে পারবেন।
আশা করি এই আর্টিকেল থেকে কিছুটা হলেও ধারণা পাবেন একটি ফোন কিনার জন্য। এখান থেকে যদি কিছুটা হলেও আপনার উপকার হয় তাহলে অনুরোধ করব একটি কমেন্ট করবেন এবং শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দেবেন। ধন্যবাদ সবাই ভাল থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
