ফ্রিল্যান্সিং কি? কত টাকা আয় করা সম্ভব? কিভাবে ফ্রিল্যান্সার হওয়া সম্ভব? Tech Zakir

ফ্রিল্যান্সিং কি? What is freelancing? কিভাবে একজন ফ্রিল্যান্সার হওয়া সম্ভব? How to become a freelancer? Tech Zakir

ফ্রিল্যান্সিং - Freelancing

বর্তমান বাংলাদেশে সবচাইতে বেশি প্রচলিত অর্থ আয়ের একটি রাস্তা Freelancing. মাত্র দুই দশকেরও কম সময়ে বিশ্বের কাছে পরিচিত হওয়া অনলাইন আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। সারা পৃথিবীতে ডিজিটাল ইকোনমির বাজার হয়ে গেছে প্রায় ১২ ট্রিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ। বর্তমান বিশ্বের অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে যে পরিমাণ কাজের সুযোগ রয়েছে পাল্লা দিয়ে ঠিক ততটুকুই দক্ষ কর্মীর সংকট রয়েছে, তাই কেউ যদি নিজেকে সঠিক ভাবে দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে তবে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো থেকে ফ্রিল্যান্সিং জব এর মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থ আয় করা সম্ভব তা যে কাউকে চমকে দিবে।

আমাদের আজকের পোস্টে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।
◾ ফ্রিল্যান্সিং কি? What is freelancing?
কিভাবে একজন ফ্রিল্যান্সার হওয়া সম্ভব? How to become a freelancer?
কোন কোন কাজের ছাহিদা মার্কেটে সবচাইতে বেশি? Which jobs are most in demand in the market?
কোথায় সবচাইতে ভালো ভাবে কাজ শিখা সম্ভব? Where is the best way to learn to work?
একজন ফ্রিল্যান্সার কি পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারে? How Much Money Does a Freelancer Make?
কোন মার্কেটপ্লেস অর্থ আয়ের জন্য সবচাইতে ভালো? Which marketplace is best for making money?
যাবতীয় সবকিছুই আলোচনা করা হবে আজকের পোস্টে। জানতে চাইলে পুরো পোস্টটি ধৈর্য্য সহকারে পড়ুন।

শুরুতে আলোচনা করব ফ্রিল্যান্সিং কি? [ What is freelancing? ]
ফ্রিল্যান্সিং (freelancing) মূলত একটি মুক্ত পেশা, সহজ কথায় কারো উপর নির্ভরশীল না হয়ে মুক্ত এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সামর্থ্যকে মূলত ফ্রিল্যান্সিং(freelancing) পেশা বলা হয়। সহজ কথায় কোন একজনকে ফ্রিল্যান্সিং(freelancing) পেশায় আসতে হলে কোন একটি নির্দিষ্ট কাজের উপর দক্ষতা থাকতে হবে, আর দক্ষতার পাশাপাশি যদি কাজের এক্সপিরিয়েন্স থাকে তবে সেখানে কাজ করতে অনেক বেশি সুবিধা হয়।

বর্তমান বাজারে প্রচলিত প্রায় সব পেশায় ই ফ্রিল্যান্সিং(freelancing) করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ একজন প্রোগ্রামার, একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার কিংবা একজন ওয়েব ডেভলপার, অথবা কোন একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট এর ও ফ্রিল্যান্সিং(freelancing) পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। একইভাবে একজন ফটোগ্রাফার কিংবা একজন প্রফেশনাল অ্যাক্টর কিংবা টিচার সবারই রয়েছে নিজেদেরকে ফ্রিল্যান্সার(freelancing) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ। কারণ এই সবগুলো পেশায় ই সাধারণত ৯টা - ৫টার অফিশিয়াল নিয়মের চুক্তির মধ্যে নাথেকে মুক্তভাবে করা সম্ভব।

১৮১৯ সালে প্রথম বারের মত শুরু হওয়া ফ্রিল্যান্সিং(freelancing) প্রেসার ধরন বর্তমান সময়ে এসে অনেক বদলে গেছে। বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে ফ্রিল্যান্সিং(freelancing) বলতে যা বুঝি তা পুরোটাই ইন্টারনেট ভিত্তিক।
ইন্টারনেট ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং(freelancing) পেশা শুরু হয়েছিলো ১৯৯১ সালে। এর পর বিশ্ব জুড়ে ইন্টারনেটভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং(freelancing) পেশা সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছিল ১৯৯৯ সালে ইল্যান্সের মাধ্যমে। এরপর ইল্যান্সের পথ অনুসরণ করে এক যুগেরও কম সময়ে অন্তত ডজনখানেক আউটসোর্সিং মার্কেট প্লেসের জন্ম হয়ে যায় বিশ্বজুড়ে।
এখন মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এতগুলো মার্কেটপ্লেসে কারা কাজ করতে পারে?
বর্তমান মার্কেটপ্লেসগুলোতে সবচেয়ে বেশি কাজ রয়েছে ITT Viton এর যার মধ্যে ওয়েব ডেভলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট, কিংবা অ্যাপস ডেভলপমেন্ট এর কাজ ই সবচাইতে বেশি। এছাড়া গেমস ডেভলপমেন্ট, ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশন, আইটি সাপোর্ট, সাইবার সিকিউরিটি, ডাটা এনালাইসিস, ডাটা প্রমোশন, ডাটাবেস ডিজাইন ইউজার টেস্টিং এর মত কাজগুলোর বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে। যার সাথে গত দশকে যুক্ত হয়ে গেছে artificial intelligence বা ai

আইটির (IT) পরেই রয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্রিয়েটিভ ডিজাইন ডেভলপমেন্ট এর কাজ গুলো। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজাইন রিলেটেড কাজ। যেমন লোগো ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন, পোস্টার ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডিজাইন, প্রফেশনাল ইমেইল টেমপ্লেট ডিজাইন এর মত কাজগুলো এখানে বিদ্যমান।
অডিও এডিটিং, ভিডিও এডিটিং, ম্যানুপুলেশন এর কাজগুলো এখানে যথেষ্ট চাহিদা সম্পন্ন। 
ক্রিয়েটিভ এসব কাজগুলোর পরে এখানে রয়েছে মার্কেটিং সেলস এন্ড সাপোর্ট এর কাজ। মার্কেটিং এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাজ হচ্ছে গুগল এডওয়ার্ড এবং ফেসবুক ডিজিটাল মার্কেটিং রিলেটেড কাজগুলো। যেখানে ছোট-বড় কোম্পানি কিংবা কোন ব্যক্তি তার নিজের ক্যাম্পেইন গুলো ভালো ভাবে চালু করার জন্য আপনাকে হায়ার করতে পারে। ডিজিটাল মার্কেটিং এর পার্ট হচ্ছে অনেক বড় যার মধ্যে কনটেন্ট মার্কেটিং, ভিডিও মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং, ডিসপ্লের এডভেটাইজ মারকেটিং, ই-কমার্স মার্কেটিং, ইনফ্লুয়েন্স মারকেটিং, ক্রাউডফান্ডিং, ওয়েব এনালাইসিস, ডোমেইন রিসার্চ, এফিলিয়েট মার্কেটিং, মোবাইল অ্যাপস মার্কেটিং, মিউজিক প্রমোশন, ওয়েব ট্রাফিক এবং SEO এর মত কাজগুলো যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে।
এরপরে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে ডাটা এন্ট্রি, মার্কেট রিসার্চ, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, বিজনেস কনসালটেশন কিংবা সাপ্লাই চেইন কিংবা ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এর মত কাজগুলো। আর কিছুটা কম হলেও জনপ্রিয়তার দিক থেকে যথেষ্ট ভাল অবস্থায় রয়েছে লাইফ স্টাইল রিলেটেড কাজগুলো। যার মধ্যে অনলাইন টিউটরিয়াল, লাইফ কোচিং, ফিটনেস মেন্টর, কুকিং, ট্রাভেলিং, ভার্চুয়াল ভিডিওস, হেলথ নিউট্রিশিয়ান এন্ড ফিটনেস এক্সপার্ট এর মত কাজগুলোর চাহিদা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।
তাহলে এতক্ষনে বুঝতে পেরেছেন কোন বিষয়ে যদি আপনার অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে কাজের কোন অভাব নেই আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে।
একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য কাজ শিখতে আপনি কোথায় যাবেন?
সেই নিয়ে আপনার প্রশ্ন থাকতে পারে! এই ক্ষেত্রে শুরুতেই বলে রাখি ফ্রিল্যান্সার ট্রেনিং নামের যতগুলো ট্রেনিং আছে এগুলো থেকে ১০০ হাত দূরে থাখুন! বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সার ট্রেনিং নামে কোন ট্রেনিং বাস্তবতায় নেই। তবে স্পেসিফিক কাজের উপর ট্রেনিং অবশ্যই রয়েছে, যেমন গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর আপনি কোর্স করতে পারেন, অথবা প্রোগ্রামিং, মাল্টিমিডিয়া রিলেটেড কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিং রিলেটেড কোর্সগুলো আপনি করতে পারেন। আর এইসব কোর্সগুলো করে যদি আপনি দক্ষ হতে পারেন তাহলে আপনার জন্য ফ্রিল্যান্সার হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এইসব কোর্স গুলো শিখার জন্য আমি যতটুকু খুজে পেয়েছি তাতে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল অন্যতম একটি। আগারগাঁওয়ে অবস্থিত সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটিতে স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদী সব গুলো বিষয়ের উপর প্রফেশনাল কোর্সের ব্যবস্থা রয়েছে, সাথে এটাও মনে রাখতে হবে সেখানে আসন সংখ্যা যথেষ্ট সীমিত।
এরপরে যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হচ্ছে IDB-BISEW যেখানে আইটি স্কলারশিপ এর ও ব্যবস্থা রয়েছে।
আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ধানমন্ডির CREATIVE IT, NEW HORIZONS, বনানীতে অবস্থিত Coders Trust, Shikhbe Shobai এছাড়া ইশিখন, ঘুড়ি লার্নিং এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আপনাকে শেখার অনেক সুযোগ করে দিচ্ছে।

মোটামুটি দক্ষ কিংবা ভালো ভাবে দক্ষ একজন ফ্রিল্যান্সার সত্যিকার অর্থে কোন মার্কেটপ্লেসগুলোতে সবচেয়ে বেশি কাজ করে আপনার সেই কনফিউশন ও দূর করে দিচ্ছি।
বর্তমান বিশ্বে আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস হচ্ছে আপওয়ার্ক (UpWork) যেখানে ছোট এবং বড় সব ধরনের প্রজেক্টই রয়েছে। এরপরই রয়েছে ফ্রিল্যান্সার, (freelancer) পিপল পার হাওয়ার (peopleperhour), গুরু (Guru) এর মত মার্কেট গুলো।
আর মাইক্রো জব এর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইটটি হচ্ছে ফাইবার (fiverr) 
নিজেকে যদি সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং সবচেয়ে কোয়ালিটিফুল একজন ফ্রিল্যান্সার মনে করেন তবে আপনার জন্য রয়েছে টপটাল।

ছোট-বড় এসব আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেসগুলো থেকে একজন ফ্রিল্যান্সার কি পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারে আপনি নিশ্চয়ই সেটা জানতে চান?
মার্কেটপ্লেসগুলোতে ব্যাপারটা পুরোপুরি নির্ভর করে আপনি কতটুকু দক্ষ এবং কোন কাজের উপর দক্ষ সেটির উপর। উদাহরণস্বরূপ একজন ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রোগ্রামার কিংবা সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট যে পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারবেন একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের পক্ষে ঠিক ততো আয় করা কোনভাবেই সম্ভব নয়।
আবার ডিজিটাল মার্কেটিং এ আর্নিং এর ব্যাপারটি বেশিরভাগ অংশই পারফরমেন্সের উপর নির্ভরশীল। তবে বাংলাদেশে পারিপার্শ্বিক অবস্থায় একজন ফ্রিল্যান্সার একেবারে এন্ট্রি লেভেলের যে পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারেন সেটা বাংলাদেশের এন্ট্রি লেভেল জব গুলো থেকে কয়েক গুণ বেশি। আর যারা মোটামুটি এক্সপার্ট লেবেলে রয়েছেন এবং আপওয়ার্ক এর মত মার্কেটপ্লেসে টপরেটেড তাদের স্ট্যাটাস বাংলাদেশের সেরা কর্পোরেট লেভেল জব গুলো থেকে অনেক বেশি। সহজ কথায় তারা সিক্স ডিজিটের ইনকাম করেন। সেটা এক লক্ষ থেকে নয় লক্ষ্যের মধ্যে হতে পারে কিংবা তার চেয়ে কম বেশি হতে পারে।

যারা মার্কেটপ্লেসে একেবারেই নতুন তাদের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে টাকাগুলো বাংলাদেশে কিভাবে নিয়ে আসবো? সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হচ্ছে ব্যাংক। বাংলাদেশের যেকোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি ব্যাংকে যদি আপনার কোন অ্যাকাউন্ট থাকে তবে সেই একাউন্টে আপনার আপওয়ার্ক কিংবা ফাইবার একাউন্ট এড করে দিয়ে ব্যাংকের সুইফট কোডের মাধ্যমে একদিনের ব্যবধানে টাকা বাংলাদেশ নিয়ে আসা সম্ভব। আর অন্যটি হচ্ছে Payoneer MasterCard. Payoneer এর মাধ্যমে আপনি চাইলে টাকাগুলো আপনার Payoneer Card এড করে নিতে পারেন। এছাড়া আরো কিছু পেমেন্ট অপশন রয়েছে তবে সেগুলো বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়।


 অনেকেই জানতে চেয়েছেন ফ্রিল্যান্সিং (freelancing) এ মেয়েদের জন্য সুবিধা কেমন?
আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয় তবে সবচেয়ে সহজ উত্তরটি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সুবিধা মেয়েদের জন্যই! বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মেয়েদের ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করা এখনো অনেক বড় চ্যালেঞ্জ! অনেকেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কাজ করে যাচ্ছেন কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বেশিরভাগ অংশের সুযোগ পাচ্ছেন না তাই একটু ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করে যদি আপনি কাজ শিখতে পারেন এবং নিজেকে অভিজ্ঞ করে গড়ে তুলতে পারেন তবে নিশ্চিত থাকুন আপনার জন্য যথেষ্ট কাজ রয়েছে। আর পরিশ্রমের ওই পরিমাণ টা নিশ্চিত ভাবেই আমাদের দেশে প্রচলিত বিসিএস এর মত মানুষের জন্ম-মৃত্যুর তারিখ মনে রাখার মতো বিরক্তকর নয়।

 একজন ফ্রীল্যান্সার হতে গেলে আপনার কি কি চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেটা ও আপনার জেনে রাখা জরুরী। 
আমাদের দেশ এবং সমাজের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সামাজিক আইডেন্টিটি। বেশিরভাগ অংশই আমাদের দেশ এবং সমাজের মানুষ জানে না ফ্রিল্যান্সিং(freelancing) কি! বছরখানেক আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল যে আপনি ব্যাংকে গেলে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি একাউন্ট করতে পারতেন না। আর বিয়ে শাদীর মত ব্যাপারগুলোতে ব্যাপারটা আরো বেশি সিরিয়াস। 
আইডেন্টিটি পরে আসে গার্ডিয়ান। একজন ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য আপনার যে সঠিক গাইডলাইন দরকার সেটা বাংলাদেশে এখনো ঠিক ভাবে নেই। উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি একজন হ্যাকার হতে চান তবে আপনার জন্য গাইডলাইনের প্রচন্ড অভাব রয়েছে। অথচ হ্যাকাররাই সাইবার সিকিউরিটির কাজ গুলো সবচেয়ে বেশি করে থাকে এবং বর্তমান বাজারে এই জবের চাহিদা অনেক বেশি। গাইডলাইনের সাথে জড়িত আছে ইংরেজির দক্ষতা। মার্কেটপ্লেসগুলোতে যেসব পোস্ট হয় তার নব্বই শতাংশের ওপরে রয়েছে ক্লায়েন্ট ভালো ইংরেজির দক্ষতা ডিমান্ড করে করে। একজন ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য সত্যিকার অর্থে ইংরেজির দক্ষতা যথেষ্ট জরুরি।
চ্যালেঞ্জিং এতসব প্রতিকূলতার পরও বাংলাদেশ আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে রীতিমতো সুপারস্টার। অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট (Oxford international institute) এর জয়েন্ বলছেন বর্তমান বিশ্বে আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বাংলাদেশের উপরে অবস্থান করছে শুধু ভারত। তাহলে আপনি নিশ্চিত ভাবেই ধরে নিতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ রয়েছে এ মার্কেটে নিজেদের অবস্থান আরও বেশি শক্তিশালী করার ।

২০১৬ সালের রিপোর্ট বলছে সাড়ে ১১ ট্রিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল ইকনোমি সারা পৃথিবীর জিডিপির ১৫.৫% বাংলাদেশ-ভারত কিংবা ফিলিপাইন এর মতো দেশগুলোতে। এই ডেভলপমেন্ট এর পরিমাণ প্রতিবছর প্রায় ১০ শতাংশের বেশি।
বর্তমানে বাংলাদেশের ইয়ং জেনারেশন যেভাবে ডিজিটাল ইকোনমিক দিকে ঝুঁকছেন কিংবা ফ্রিল্যান্সিং(freelancing) এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আগামী এক দশকের মধ্যে এই খাতটি হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনীতির যোগানদাতা। 
২০২০ সালের তথ্য বলছে বাংলাদেশের ১২০ টির ও বেশী আইটি কোম্পানি বিশ্বের ৩৫টি দেশে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আইটি প্রোডাক্ট রপ্তানি করেছে। অন্যদিকে ইন্ডিভিজুয়াল প্রতিষ্ঠিত ৬ লক্ষেরও বেশি ফ্রিল্যান্সার রয়েছে বাংলাদেশে, যারা বছর শেষে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ বাংলাদেশে নিয়ে আসে। আর সবগুলো অর্থ সরাসরি বাংলাদেশের ফরেন রিজাভ এ যুক্ত হয়।

পরিশেষে বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি এন্ট্রি লেভেলের জব এ মান্থলি সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আপনি স্যালারি পেতে পারেন যে জবের জন্য আপনি পরিশ্রম করেছেন পুরো স্টুডেন্ট লাইফ। এখন কথা হচ্ছে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা এন্ট্রি লেভেলের স্যালারির জন্য আপনি জুতার তলা ক্ষয় করবেন নাকি মাথার চুল নষ্ট করবেন সেটা আপনার সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমার পুরো আলোচনা এটা নিশ্চিতভাবে ক্লিয়ার হয়ে গিয়েছে কিভাবে আপনি একজন এন্ট্রি লেভেল প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার হতে পারেন ।

3 Comments

Previous Post Next Post